
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কুমিল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বছর জেলার ১৮টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৮৬০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার শ্রী শ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী বাড়িতে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও বর্ধিত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ট্রাস্টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল পাল। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী নারায়ণ সরকার। এতে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলার প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপের সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারা বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজার সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
পূজামণ্ডপ কমিটিগুলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লায় ৮১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬০টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ৪২টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালে কুমিল্লা মহানগর এলাকায় ১৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত বছর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
এ ছাড়া একই দিন থেকে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপির সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পূজার পুরো সময়জুড়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে কুমিল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।