
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সর্বমহলে পরিচিত মুখ শামীম সাহেব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে চান্দিনা বাজারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ব্যবসায়ী মহল, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর অকাল প্রয়াণে শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতি
মরহুম শামীম ছিলেন চান্দিনার খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও চান্দিনা পাইলট হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম ইউসুফ আলী স্যারের পৌত্র। তিনি চান্দিনা বাজারের বিশিষ্ট সার ব্যবসায়ী মরহুম সেলিম মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।
পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি নিজ কর্মগুণেও তিনি চান্দিনা বাজারে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণে তিনি ব্যবসায়ী মহলে আস্থা ও সম্মান অর্জন করেন। চান্দিনা বাজারের হাতেগোনা সফল ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। একজন সৎ, অমায়িক, বিনয়ী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে তাঁর বিশেষ সুনাম ছিল। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বজন-পরিচিতদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তিনি অল্প সময়েই সর্বস্তরের মানুষের কাছে আপনজন হয়ে উঠেছিলেন।
মৃত্যুতে শোকের ছায়া
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চান্দিনা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রিয় মানুষটির অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শামীমের আকস্মিক চলে যাওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
জানাজায় মানুষের ঢল
মরহুমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাঁকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে চান্দিনার বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বস্তরের মানুষ ছুটে আসেন। পরে আজ চান্দিনা পাইলট হাই স্কুল মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। এ সময় পুরো মাঠজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করে।
জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকেই মরহুমের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতি স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দোয়া ও শোক প্রকাশ
মরহুম শামীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তারা মহান আল্লাহর দরবারে মরহুম শামীমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার এবং তাঁর পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সইবার শক্তি দান করার জন্য প্রার্থনা করেছেন।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমিন।