
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক নান্টু আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সে চালক ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জাঙ্গালিয়া-নোয়াগাঁও চৌমুহনী রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটির নম্বর চট্ট মেট্রো-চ-৭১-০২৪২।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি জাঙ্গালিয়া-নোয়াগাঁও চৌমুহনী রেলক্রসিং দিয়ে পার হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি রেললাইনের পাশের দিকে ছিটকে পড়ে এবং সামনের ও বিভিন্ন অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক নান্টু, যার বাবার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং তিনি দেবিদ্বার থানার বাসিন্দা বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সিট থেকে ছিটকে পড়ে আহত হন। পরে তিনি নিজে উঠে একটি অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সের ভাঙাচোরা অংশ রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ফলে রেললাইনে দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
পরে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে চলে যায়। বর্তমানে ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলের ওই রেলক্রসিংয়ে নিয়মিত গেটম্যান না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। প্রাথমিকভাবে গেটম্যান না থাকার বিষয়টি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে কী কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি চলন্ত ট্রেনের সামনে চলে আসে এবং দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।