নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব থাকলেও দেশে আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। নিয়মিত মূল্য সমন্বয় বৈঠকে বর্তমান দামই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মাস শেষে অনুষ্ঠিত মূল্য সমন্বয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের বর্তমান দামই বহাল থাকবে। সেই অনুযায়ী ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে জ্বালানির নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ জ্বালানি খাতে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও পূর্বানুমেয় নীতির অংশ, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
দেশে জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ভাণ্ডারে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এছাড়া এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিকল্প কিছু পদক্ষেপও বিবেচনায় নিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগ নিয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টিও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।