
নিজস্ব প্রতিনিধি :
কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট অভিযানে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস, পাইপলাইন অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কেরণখাল ইউনিয়নের দোতলা এবং বাতাঘাসী ইউনিয়নের মোহনপুর তালপট্টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছিল, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও পড়ছিল নেতিবাচক প্রভাব।
এ প্রেক্ষাপটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনটি ড্রেজার মেশিন সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ১০ হাজার ফুট পাইপলাইন ধ্বংস করা হয়, যা অবৈধ মাটি উত্তোলনের প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অপরাধে বাতাঘাসী ইউনিয়নের মোহনপুর এলাকার মোহাম্মদ সোহেলকে ২ লাখ টাকা এবং কেরণখাল ইউনিয়নের দোতলা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী আবুল হাসেমকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া এর আগের রাতে (৩১ মার্চ ২০২৬) পরিচালিত পৃথক অভিযানে বদরপুর ইউনিয়নের বামনীখোলা এবং চান্দিনা পৌরসভার বড় গোবিন্দপুরের মধ্যমতলা এলাকায় ভেকু মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে রমিজ উদ্দিন (৬৬) ও আবুল কাসেম মাস্টার (৬৫)-কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন চান্দিনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নুর। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে এলাকার অনেক কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, নদী ও খাল দখলমুক্ত রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।