
নাজমুল হাসান, খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পচর্চা, চারুকলা শিক্ষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে খুলনা আর্ট একাডেমি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির “ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা” পরিদর্শন করেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক মোঃ আজগর হোসেন।২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা আর্ট একাডেমি বর্তমানে শুধু একটি শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
খুলনা ইকবালনগর স্কুলের পূর্ব পাশে আয়েশা কটেজের নিচতলায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সংগীত, হাতের লেখা শিক্ষা এবং চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিল্পঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিলন বিশ্বাস দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নবীন শিল্পী গড়ে তোলা, গ্রামীণ সংস্কৃতি লালন এবং শিল্পচেতনা বিকাশে নিরলস সাধনা করে চলেছেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় দেশীয় সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, স্মৃতিচিহ্ন ও বিভিন্ন সৃজনশীল উপকরণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও সংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করছে।
পরিদর্শনকালে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস ও অক্ষরশিল্পী ধনঞ্জয় রায় ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে অতিথিকে বরণ করে নেন। এ সময় মোঃ আজগর হোসেন সংরক্ষণশালার বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং এর প্রশংসা করেন। সংরক্ষণশালায় তিন শতাধিক এর অধিক সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং ভবিষ্যতে এই সংরক্ষণশালার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুলনা আর্ট একাডেমির এই প্রচেষ্টা শুধু শিল্পশিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, খুলনা আর্ট একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে যমুনা টিভি, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস মনে করেন, শিল্পচর্চা শুধু নান্দনিকতার বিষয় নয়, এটি সমাজকে সুন্দর ও মানবিক করে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই শিল্পশিক্ষার পাশাপাশি তিনি ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাহিত্যচর্চা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সৃজনশীল শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।