
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে গভীর রাতে ফসলি জমি, সরকারি খাস জমি এবং গাঙের পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণপুর গ্রামের রাজ্জাক মজুমদারের ছেলে কামরুল হাসান এবং সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জসিম মিলে একটি সংগঠিত মাটি কাটার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এভাবে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জমি আগের তুলনায় নিচু হয়ে পড়ায় সেখানে আর আগের মতো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ওই এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু কৃষিজমিই নয়—সরকারি খাস জমি ও গাঙের পাড় থেকেও অবাধে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে একাধিকবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভেকু জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। কিন্তু প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও রাতের আঁধারে শুরু হয় মাটি কাটার কার্যক্রম। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গভীর রাতে ভেকু ও ট্রাকের বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না হলে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।