
নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঠের পুল এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নিহত ইবনে তাইম (১৫) প্রতিদিনের মতো সকালে একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিলেন। কোচিং শেষ করে বাসায় ফেরার পথে চান্দিনা কাঠের পুল এলাকার ইউ-টার্নে রাস্তা পারাপারের সময় চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগামী লরি তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইবনে তাইম চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার বড় ছেলে। তিনি বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইবনে তাইম নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘাতক লরিটি আটক করে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা কাঠের পুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং নিরাপদ পারাপারের অভাবে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দ্রুত এ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা এ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।