
এম এ খায়ের ইমন (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিবি লেখা পোশাক, হ্যান্ডকাফ, লেজার লাইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় চক্রের প্রধানসহ আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বরুড়া থানার একটি বিশেষ অভিযানে এ ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে বরুড়া বাজার এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে ডিবি পুলিশের পোশাকধারী একটি ডাকাত দল বরুড়া উপজেলার খোশবাস (দক্ষিণ) ইউনিয়নের বড় হরিপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
খবর পেয়ে বরুড়া থানার এসআই (নিঃ) মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. খলিলুর রহমান (৪৯), মো. সুমন মোল্লা (৪১), মো. হারুন মল্লিক (৪৬), মো. মাহতাব হোসেন মৃধা (৩৮), আবুল কাশেম ওরফে কাসেম (৪৪), মো. সোহাগ রানা (৪৫), মো. মোশারফ মেলকার (৪৬) এবং মো. নুরুল হক (৪৪)। তারা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে ডিবি লেখা দুটি খাকি রঙের কুটি, একটি হ্যান্ডকাফ ও চাবি, একটি লেজার লাইট, একটি ম্যাজিক স্টিক, একটি হাতুড়ি, একটি চাইনিজ কুড়াল সদৃশ ধারালো অস্ত্র, দুটি ধারালো ছুরি এবং একটি স্টিলের কাটার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছিল। তাদের সঙ্গে থাকা চক্রের প্রধান মনির হোসেন ওরফে ‘মনির ডাকাত’সহ আরও ৬/৭ জন সদস্য পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা বরুড়া থানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, ডাকাতি ও রাহাজানির মতো অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০, ১৭১, ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় বরুড়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।