
সোমা ঘোষ মণিকা, স্টাফ রিপোর্টার:
সাভারের আলোচিত ছয় খুনের মামলায় গ্রেপ্তার ‘সাইকো সম্রাট’ আদালতে নিজেকে পাগল প্রমাণের সব চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নাটকীয় আচরণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পর অবশেষে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেছে সে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর তদন্ত পর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতের মুখে সম্রাট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিল। তবে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে হাজির হয়ে সে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করলে বিকেল তিনটার দিকে তাকে আদালতে আনা হয়।
এ সময় হঠাৎ করেই এলোমেলো আচরণ শুরু করে অভিযুক্ত। কখনো অসংলগ্ন কথা, কখনো দীর্ঘ নীরবতা, আবার কখনো চা ও খাবারের আবদার করে নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণের চেষ্টা চালায় সে। আদালত তার সব যুক্তিসংগত চাহিদা পূরণ করলেও মূল প্রশ্ন হলো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে থাকে সম্রাট।
এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা পেরিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে তার নিখুঁত এই নাটক। আদালতের ধৈর্যের পরীক্ষার মধ্যেই সময় গড়াতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যের ভার আর বহন করতে পারেনি অভিযুক্ত। সন্ধ্যার নীরবতায় ভেঙে পড়ে তার সাজানো মুখোশ। কাঁপা কণ্ঠে একে একে স্বীকার করে নেয় সাভারের আলোচিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের দায়।
আদালতকক্ষ তখন আর কেবল বিচারালয় ছিল না। তা যেন পরিণত হয় ছয়টি নিভে যাওয়া জীবনের নীরব স্মৃতিস্তম্ভে। একদিকে একজন খুনির স্বীকারোক্তি, অন্যদিকে সমাজের সামনে উঠে আসে নির্মম প্রশ্ন। মানুষ কতটা নৃশংস হলে এমন হত্যাযজ্ঞ ঘটাতে পারে?
এখনই সময় আমাদের চারপাশের মানুষদের আচার আচরন সম্পর্কে আরো সচেতন হওয়া।