
বিশেষ প্রতিনিধি:
অপরাধ ও মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরও শান্তিতে থাকতে পারছেন না কুমিল্লার দাউদকান্দি-তিতাস সীমান্তবর্তী বড় গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে মৎস্য খামার গড়ে তোলেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, এলাকার প্রভাবশালী মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের চক্রান্ত, হয়রানি এবং সংঘবদ্ধ মাছ চুরির কারণে আজ তিনি সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তার জানান, একসময় তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ কারণে তাকে কয়েকবার কারাভোগও করতে হয়েছে। তবে পরিবার ও সমাজের কথা চিন্তা করে তিনি সম্পূর্ণভাবে সেই পথ থেকে সরে আসেন। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে মাছ চাষ শুরু করেন এবং বৈধ উপায়ে আয়-রোজগার করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করেন।
কিন্তু তার অভিযোগ, অপরাধের পথ ত্যাগ করলেও স্থানীয় মাদকচক্র তাকে সহজভাবে মেনে নেয়নি। বরং তিনি ভালো পথে ফিরে আসায় ওই চক্রটি তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিবার মাছ বিক্রির মৌসুম ঘনিয়ে এলে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়। কখনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা হয়, আবার কখনো বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
আব্দুস সাত্তারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে আইনি জটিলতায় ফেলে কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হয়। আর সেই সুযোগে তার মৎস্য খামার থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্রটি। এতে তিনি একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ছেন।
তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে তার খামার থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার মাছ চুরি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে চারটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। এসব ঘটনায় স্থানীয় থানায় একাধিকবার অভিযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি তার।
আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমি অতীতের ভুল বুঝতে পেরে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী চক্র আমাকে বারবার হয়রানি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে এসে বৈধ পেশায় যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরও চক্রান্ত ও হয়রানির শিকার হন, তাহলে তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মাছ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচারিক নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।