
মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্যকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও, অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তিনি পুরো ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মানহানির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার এককভাবে কোনো ডিলার নিয়োগ, বাতিল বা সুপারিশ করার ক্ষমতা নেই। আবেদন গ্রহণ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আইন ও নীতিমালা অনুসারে একাধিক কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, কৃষি পরিচালকের কার্যালয়ে আবেদন জমা হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ১১টি ইউনিয়নের জন্য পৃথক যাচাই কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি আবেদনকারীদের তথ্য সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিবেদন উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে জমা দেয়। পরে কমিটির সুপারিশ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আমি উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কেবল সাচিবিক ও তদারকির দায়িত্ব পালন করি। কারও ডিলারশিপ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। আমাকে জড়িয়ে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে যে ব্যক্তি বা আইডি থেকে এই ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে, তাকে আমি চিনি না, জানিও না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের প্রচারণা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এ ঘটনায় প্রকাশিত ফটোকার্ডের তথ্যের উৎস, অভিযোগের ভিত্তি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।