
মোঃ মোশারফ হোসেন
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মিসেস সামসুন নাহার সুমি উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। সম্প্রতি জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি এ মর্যাদাপূর্ণ পদে উন্নীত হন। তাঁর এ সাফল্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের আজ্ঞাপুর গ্রামে আনন্দ, গর্ব ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
মিসেস সামসুন নাহার সুমির পৈতৃক নিবাস বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের আজ্ঞাপুর পূর্বপাড়ায়। তিনি আজ্ঞাপুরের কৃতীসন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শহীদুল্লাহ খাঁনের কন্যা। শহীদুল্লাহ খাঁন বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান আজও এলাকাবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
সামসুন নাহার সুমি ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ২১ আগস্ট ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে সুনাম অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্ট (বাংলাদেশ)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক জীবনেও তিনি একটি সম্মানিত পরিবারের সদস্য। তাঁর স্বামী প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, সামসুন নাহার সুমির এ পদোন্নতি তাঁর মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার যথার্থ স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আজ্ঞাপুরবাসীর জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁদের ভাষায়, গ্রামের একজন সন্তান যখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন, তখন তা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ খাঁনের আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনসেবার উত্তরাধিকার ধারণ করে সামসুন নাহার সুমি দেশের সেবার পাশাপাশি নিজ জন্মভূমি আজ্ঞাপুরের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তাঁর এই গৌরবময় পদোন্নতিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। সকলের প্রত্যাশা, কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ে তিনি আরও সাফল্য, সম্মান ও গৌরব অর্জন করবেন এবং তাঁর এ অর্জন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।