
এইচ এম শাহীন
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমিতির নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মোয়াজ্জেম, সেন্টুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাধবপুর গ্রামের মৃত জলিলের ছেলে মোয়াজ্জেম ও হারুনের ছেলে সেন্টুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির ভর্তি ফি হিসেবে ৪৫০ টাকা এবং মাসিক চাঁদা হিসেবে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে মালিক সমিতির অনুমোদন, উপজেলা সমবায় সমিতির অনুমোদনের কাগজপত্র কিংবা সমিতির কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সমিতিতে সভাপতি হিসেবে মোয়াজ্জেম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেন্টুর নাম উল্লেখ করা হলেও, তাঁদের বাইরে আর কাউকে দায়িত্বশীল হিসেবে পাওয়া যায়নি। চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে মোয়াজ্জেম ও সেন্টুর সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১৫ জনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে ১ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামও একই কথা জানান। তবে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “অনেক দিন ধরে একটি চক্র এই এলাকায় মোয়াজ্জেম ও সেন্টুর নেতৃত্বে চাঁদাবাজি করছে।”
ড্রাইভার শামসুল হক, হুসেন ও মালি জানান, তাঁদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, মালিক সমিতির নাম করে ৪৫০ টাকা ভর্তি ফিও আদায় করা হচ্ছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, এই সমিতিতে ভর্তি না হলে মাধবপুরে গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না। এলাকার কোনো চালক যাত্রী নিতে গেলে গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয় বলেও তাঁরা দাবি করেন। এ সময় তাঁরা অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অটোরিকশা ও সিএনজি পার্কিং করে সিরিয়াল পরিচালনা করা হয়। এতে মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
চালকদের অভিযোগ, ৪৫০ টাকা ভর্তি ফি দেওয়ার পর গাড়িতে সমিতির পক্ষ থেকে একটি স্টিকার লাগানো হয়। ওই স্টিকারে লেখা রয়েছে—“মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড ড্রাইভার মালিক সমিতি অনুমোদিত বাজাজ ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ।” সমিতিকে ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে অনুমোদন দিতে পারে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বাস পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, “এই সমিতির কোনো অনুমোদন নেই। স্ট্যান্ডের কোনো ডাকও নেই। এটি একটি অসাংবিধানিক ও অবৈধ সংগঠন।” তিনি এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
১ নম্বর মাধবপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আনিকুল আলম মানিক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসার পর যাচাই করে জানতে পেরেছি, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সব ধরনের অপরাধ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময়ে চাঁদাবাজি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব কাজ করছেন, তাঁদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে মোয়াজ্জেম প্রতি মাসে ২০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মানবিক কারণে চালকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য এই টাকা নেওয়া হয়। তবে চালকদের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে মাসে ২০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং ৪৫০ টাকা ভর্তি ফিও বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী দৌলত খাঁ বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য, সমিতির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।