বগুড়ার মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাবন্দি আলোচিত তুফান সরকারের শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার (৯ জুলাই) ভোরে শহরের সেউজগাড়ি পালপাড়া নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে বেশকিছু ফেনসিডিল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তুফান সরকারের শ্বশুর ফেনসিডিল ব্যবসায়ী আলম, শাশুড়ি তাসলিমা আক্তার তাসলি ও তুফান সরকারের স্ত্রী সোনালী সরকার।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এই অভিযান চলে। এ সময় আলমের চার তলা বাড়িসহ তার দুটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ফেনসিডিল এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলম ও তার স্ত্রী তাসলিমার বিরুদ্ধে ১০-১২টি করে মাদক মামলা রয়েছে। তাদের সবাইকে থানায় হস্তান্তরের করা হয়েছে।
বগুড়ার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, আসামিদের থানায় হস্তান্তরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কে এই তুফান সরকার
বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তুফান সরকারের। তুফান সরকার বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার প্রয়াত মজিবর রহমানের ছেলে এবং বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ ২১টি মামলা রয়েছে। ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তুফান। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একাধিক হত্যা মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
১ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার ১৮২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৭ নভেম্বর বগুড়ার স্পেশাল জজ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তুফান সরকারকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেই থেকে পলাতক ছিলেন তুফান সরকার। ২৩ ডিসেম্বর রাতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার বাড়ি থেকে তুফানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।