
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবার পানি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবাসহ প্রধান নদীগুলোতে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ পানি বৃদ্ধির গতি বেড়েছে। এর ফলে ভাঙনের কবলে পড়েছে কিছু এলাকা। সরিয়ে নিতে হচ্ছে একটি ইউপি ভবন, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বাজার ও শতাধিক বসতবাড়ি। বিলীন হচ্ছে জমি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার পদ্মা তীরের নারায়ণপুর ইউনিয়নে ভাঙন চলছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে জেলা প্রশাসন ও পাউবোকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ইউপি ভবন ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। একটি বাজারও সরিয়ে নিতে হবে।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়রম্যান নাজির হোসেন বলেন, ওই তিন স্থাপনাসহ ভাঙনের হুমকিতে থাকা ইউনিয়নের শতাধিক বসতবাড়ি ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জেলার পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধির মূল কারণ উজানে বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানি।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে পদ্মায় পানির স্তর ছিল ২০.২১ মিটার। গত ১০ দিনে পদ্মার পানি বেড়েছে ২.৭৫ মিটার ( ৯ ফুটের বেশি)। পদ্মার বিপৎসীমা ২২.০৫ মিটার। মহানন্দায় বুধবার পর্যন্ত ১০ দিনে পানি বেড়েছে ৩.৩৬ মিটার (১১ ফুটেরও বেশি)। মহানন্দার বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার। বুধবার পর্যন্ত গত ১০ দিনে পুনর্ভবায় পানি বেড়েছে ৩.৪১ মিটার (প্রায় সোয়া ১১ ফুট)। পুনর্ভবার বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, এবার একটু আগেভাগেই জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হারও বেশি। মৌসুমে প্রথম যখন পানি বাড়ে তখন বৃদ্ধি ও গতি বেশি হয়। এরপর বৃদ্ধি প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে। নদীর পানি বৃদ্ধি এবং হ্রাসের সময় ভাঙনের তীব্রতাও বেশি থাকে। বৃষ্টির কারণে ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধির মূল কারণ। এর সাথে জেলাতেও চলছে বৃষ্টিপাত। আরো ৫ দিন পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যহত থাকবে। তবে জেলার সকল নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনো চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই।
বন্যা সতর্কীকরণ এবং পূর্বাভাস কেন্দ্র দেশের প্রধান নদী পদ্মার সর্ব উজানের এই জেলায় এখনো বন্যার কোনো সতর্কতা জারি করেনি। প্রকৌশলী আহসান আরো বলেন, সদর উপজেলার নারায়ণপুর, পোলাঙাঙ্গা, কল্যাণপুর, শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুরসহ কিছু এলাকায় পদ্মার ভাঙন চলছে। এর মধ্যে মনোহরপুর ও পোলাডাঙ্গায় জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। জেলা শহরের কল্যাণপুর এলাকায় মহানন্দা ভাঙছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি সভায় জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। নদীভাঙন নিয়ে প্রশাসন অবহিত আছে।
এছাড়া অতিবৃষ্টিতে জেলার প্রায় ১৩০০ বিঘা জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলী। তবে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিজনিত ফসলের তেমন কোনো ক্ষতির খবর এখনো জানা যায়নি।