
মোঃ আমজাদ হোসেন
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বন্দরে বহুল আলোচিত নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল এনসিটির দায়িত্বে নৌবাহিনী পরিচালিত ড্রাইডক। আগামী ৬ মাস এটা পরিচালিত করবে এ প্রতিষ্ঠানটি রোববার মধ্যরাত থেকে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে তারা।এর আগে চুক্তি শেষ হওয়ায় দায়িত্ব ছাড়ে বিতর্কিত অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক।
বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরের এনসিটি টার্মিনালটি ব্যস্ততম একটি টার্মিনাল পুরো বন্দরে চারটি টার্মিনালের মধ্যে এই টার্মিনালটিতে অর্ধেক পণ্য উঠানামা এবং কন্টেইনার উঠানামা করানো হয় প্রায় ৪৪ শতাংশ কন্টেইনার উঠানামা করানো হয়।টার্মিনালটিতে চারটি বড় জাহাজ এবং একটি ছোট জাহাজ বার্থ করতে পারে। তাই এই টার্মিনালটি সবচাইতে ব্যস্ততম একটি টার্মিনাল। টার্মিনালটি এখন পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনস্ত ড্রাইডক লিমিটেড। এটা পরিচালনার ক্ষেত্রে যারা এই বন্দর ব্যবহারকারীরা রয়েছেন একটু দক্ষ জনবল তাদের বাড়াতে হবে। কেননা প্রতি ঘন্টায় এই টার্মিনালটিতে প্রায় ৩০ টি কন্টেইনার উঠানামা করানো হয় যদি জনবল বৃদ্ধি করানো যায় তাহলে কোন জট ছাড়া খুব স্বাভাবিকভাবে এটা চলতে থাকবে এবং পাশাপাশি এই টার্মিনালটি বিদেশীদেরকে দিয়ে দেওয়ার অনেক গুঞ্জন শোনা গেছে। যদিও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ৬ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে তারা ভালো করে কিনা। ব্যবসায়ী যারা বন্দর ব্যবহারকারী রয়েছেন তাদের মনোভূত হয় কিনা এই ছয় মাসের মধ্যেই তা ফুটে উঠবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টার্মিনালের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় হল বহুল আলোচিত এনসিটি। এখানে একই সাথে চারটি বড় এবং একটি ছোট জাহাজ ভেড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো আমলে অর্থাৎ ২০১০ থেকে পরিচালনা করে আসছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। তাদের সাথে বন্দরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ৬ জুলাই এরপর এটা দেশি না বিদেশি অপারেটর দিয়ে চালানো হবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা আলোচনা সমালোচনা কম হয়নি শেষ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডকে। রোববার রাত বারোটার পর অপারেশনাল কার্যকর শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
বন্দরের এক অফিসার আমাদের বলেন, ড্রাইডক হচ্ছে ওভারঅল টপ ম্যানেজমেন্ট হিসাবে থাকবে। ড্রাইডক এর অভ্যন্তরে ওনাদের অধীনস্থ যে কর্মকর্তা কর্মচারী তারা সবাই অভিজ্ঞ এবং তারা এতদিন টার্মিনাল পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সুতরাং এ কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না বলে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।
বন্দরে এককভাবে সবচাইতে বেশি ৪৪ শতাংশ কন্টেইনার উঠা নামা হয় এই এনসিটিতে। আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সফটওয়্যার নির্ভর এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত নতুন অপারেটর সার্বিক কর্মকান্ডে আরো গতি আনবে বলে আশায় বন্দর ব্যবহারকারীরা।
ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রেইট ফারোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন খায়রুল আলম সুজন বলেন, আমাদের কর্মব্যস্ততার সকল অংশগুলো সমন্বিত করে আমাদের টানেল টাইম জাহাজের জেটিকে যদি ঠিক রাখতে পারে আগের থেকে আরও ভালো সার্ভিস দিতে পারে তাহলে অবশ্যই আমরা এই ড্রাইডক লিমিটেডকে সাধুবাদ জানাই।
সিএন্ডএফ এজেন্ট মাহাবুবুর রহমান সাগর বলেন, আগের সাইফ পাওয়ারটেক ঘণ্টায় জাহাজ থেকে ৩০ থেকে ৪০ টি কন্টেইনার উঠানামা করতে সক্ষম হত। এখন নৌবাহিনী পরিচালিত ড্রাইডক লিমিটেড তাদের লোকবল দিয়ে কতটুকু হ্যান্ডেলিং করতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়।
বর্তমানে ঘন্টায় ৩০ টির মত কন্টেইনার উঠানামাই সক্ষম এনসিটি। তবে বন্দরে জট কমাতে আলাদা বার্থ ও সেড় এবং পর্যাপ্ত গ্রেফ টু গ্রেইন তাগিদ ব্যবসায়ীদের।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, বার্থ ও সেড় অফিস তো একটা।সেখানে গিয়ে আমাদের লাইন ধরে টাকা জমা দিয়ে আসতে হবে কেন সেখানে সেড ও বার্থ থাকবে পৃথক পৃথক ভূত সেড়ে টাকা জমা নিবে। এখন আমাদের বার্থ ও সেড়ে টাকা জমা দিয়ে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কখন লেবার আসবে।
৪৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি জেটির সমন্বয়ে ১০০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এনসিটি নির্মিত হয় ২০০৭ সালে। আর অবশেষে ১৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর দায়িত্ব ছাড়তে হয় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে।