
রাষ্ট্রায়ত্ত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-কে ঘিরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ বিনষ্ট, স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ সরবরাহে ইডিসিএলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রম অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে শ্রমিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে আবু নসের নামে এক ব্যক্তি ইডিসিএলে একটি কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, কথিত ওই পদকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা চলছে।
এদিকে আবু নসেরের বিরুদ্ধে অতীতে বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ প্রাচীন ধাতব মুদ্রাসহ একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবু নসেরের কথিত বলয়ের সঙ্গে বগুড়ার সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা ও প্রচার সম্পাদক ট্রলি সেলিম, কাওসার ও হারুন নামের কয়েকজন বিতর্কিত ও বহিষ্কৃত ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ইডিসিএলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী তৎপরতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত অডিও রেকর্ড নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, লিফলেট বিতরণ, গোপন বৈঠক এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মগবাজার ও মধুবাগ এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কথিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবিও উঠেছে। তবে অডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বরের পরিচয় এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এক সাবেক শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ নিয়োগ, বদলি-বাণিজ্য এবং ঢাকা ও বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথির মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইডিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, অনিয়ম কিংবা পরিকল্পিত অস্থিরতার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিবি, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ ও ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবু নসের ও ট্রলি
সেলিমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।