
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। তাই যেখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে, তা যেমন প্রকাশ করা প্রয়োজন, তেমনি জনগণের সেবায় কোনো কর্মকর্তা আন্তরিকতা, দক্ষতা ও ইতিবাচক উদ্যোগের পরিচয় দিলে সেটিও সংবাদে স্থান পাওয়া উচিত।
সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার কার্যক্রমে আসা বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তাঁর যোগদানের আগে যেখানে মাসে গড়ে প্রায় ২০টি মাদক মামলা রুজু হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০টিতে পৌঁছেছে, অনেক সময় তা ৪০টিরও বেশি হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করায় আইনগত ব্যবস্থার পরিমাণ বেড়েছে এবং অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হচ্ছে না।
ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, বুড়িচং থানায় কোনো দালাল চক্রের স্থান নেই। জিডি, মামলা গ্রহণ বা পুলিশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক অর্থ লেনদেন না করতে থানার সকল সদস্যকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, গত সাত মাসে তাঁর নেতৃত্বে বুড়িচং থানা এলাকায় সংঘটিত তিনটি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এতে অপরাধ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিটি নতুন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি পূর্বসূরিদের ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান এবং নতুন জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তাহলে থানাভিত্তিক সেবার মান ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে। তাঁদের মতে, বুড়িচং থানায় বর্তমানে যে ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা অন্য থানাগুলোর জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে।
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি লুৎফুর রহমান অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্যান্য থানার কর্মকর্তারাও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
জনসেবা, সততা, স্বচ্ছতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জনই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, বুড়িচং থানার বর্তমান উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।