
নিজস্ব প্রতিনিধি, চান্দিনা:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ইমাম হাসান তায়িম ভূঁইয়ার ২য় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা মিলনায়তনে এক আবেগঘন স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ তায়িমের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে শহীদ ইমাম হাসান তায়িম ভূঁইয়ার আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর আত্মদান নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই একটি জাতি তার ইতিহাস নির্মাণ করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই কঠিন সময়ে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। শহীদ তায়িমের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের জন্য সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় বিশেষভাবে উঠে আসে শহীদ তায়িমের শাহাদাত-পরবর্তী সেই হৃদয়স্পর্শী ঘটনার কথা, যা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর পুলিশ কর্মকর্তা বাবার আবেগঘন প্রশ্ন— “স্যার, একজনকে মারতে কয়টা বুলেট লাগে?”—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। শোক, বেদনা ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা এই প্রশ্ন আজও অনেকের মনে জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
বক্তারা বলেন, শহীদ তায়িম শুধু একটি পরিবারের সন্তান ছিলেন না; তিনি দেশের অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ ইমাম হাসান তায়িম ভূঁইয়াসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।