নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ৭-দফা আদায়ের মাধ্যমেই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সফলতা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই-আগস্টের জন-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন এবং জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ সমাবেশের আয়োজন করেছে। জাতীয় সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য তিনি সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অধ্যক্ষ মো: ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো: সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ইসলামিক দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও মো: ইয়াসিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ড. জুবায়ের আহমাদ প্রমুখ।
সভায় ৭-দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুলাই শনিবার বেলা ২টায় রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক ‘জাতীয় সমাবেশ’ সফল করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় জামায়াতের : বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। গতকাল পল্টন কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেছে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে নিজেদের মতো করে ইতিহাস রচনা করেছে। তাই তিনি, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাষ্ট্র কর্তৃক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং শোষণের হাত থেকে মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্থান করে নিলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের জনগণ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। স্বাধীনতার নামে পরাধীনতার শিকলে জাতিকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে বৈষম্য, নাগরিকদের কণ্ঠরোধ, বিরোধী দলমত নিপীড়নের ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধারে স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তব রূপ লাভ করেনি। যার কারণে স্বাধীন দেশের মানুষ বারবার মুক্তির জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। সবশেষ মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করে। দেশের জনগণ এখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবারো উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তৃতা করেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হাফিজ বিন ছিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম খান প্রমুখ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আতিকুর রহমান, হাফেজ আহসান উল্লাহ, মো: সাহাব উদ্দিন, মো: এয়াকুব আলী চৌধুরী, একরামুল হক, মো: আবদুস সোবহান, সাব্বির আহম্মদ, গাজী আব্দুর জাব্বার প্রমুখ।







