
সীমান্তবর্তী অবহেলিত ভাঙা ব্রীজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল-দ্রুত সংস্কারের দাবি
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী ও সাঘাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী হরিনাথপুর ইউনিয়নের ভেলাকোপা গ্রামের হিয়ালি বটতলা-শিব মন্দির সংলগ্ন ব্রীজটি দীর্ঘদিন ধরে ধসে পড়ে আছে। ফলে শুধু ওই এলাকার বাসিন্দারাই নয়, আশপাশের হাজারো মানুষ প্রতিদিন তালুকজামিরা থেকে বোনারপাড়া পর্যন্ত যাতায়াতকারীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ব্রীজটির মাঝখান পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং দুই পাশের সংযোগ পাকা রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ভারী যানবাহনের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী পরিবহন এবং যাত্রী চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
ব্রীজ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে কাঠ সংগ্রহ করে কিছুটা অংশে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতে এই কাঠের সাঁকো মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষ্ণ কুমার দাস বলেন, মাঝখানে কাঠ দিয়ে যেটুকু পারাপারের ব্যবস্থা হয়েছে, তা খুবই বিপজ্জনক। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্রীজটি হরিনাথপুর ও পদুম শহর ইউনিয়নের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় এটি কার দায়িত্বে পড়বে, তা নিয়ে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই বহুদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র বর্মন বলেন, এটা এখন আর ব্রীজ নেই, কাঠ দিয়ে কোনরকমে চলাচল করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পদুম শহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক জানান, ব্রীজটির দুরবস্থার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে সাঘাটা উপজেলার ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সরকারি বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকারি উদ্যোগে একটি টেকসই ও স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।