1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. cumillarswadinsangbad@gmail.com : cumillar swadin sangbad : Md Abul Khayer
সাম্প্রতিক কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া দুই'টি ঘটনায় অভিভাবকসহ সর্বত্রই আতঙ্কিত ও চিন্তিত - cumillarswadinsangbad
১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ১০:০৮|
শিরোনামঃ
মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির অভিযোগে চান্দিনায় দত্ত ফার্মেসিকে লাখ টাকা জরিমানা ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ মুরাদনগরে দুর্গাপূজা ঘিরে বিএনপির মতবিনিময় সভা কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ চান্দিনায় মেয়র প্রার্থী নূরুল ইসলাম মুন্সির সঙ্গে বিএনপির মূল দলের নেতা বাদলের নেতৃত্বে ৪নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের যোগদান দাউদকান্দিতে মহাসড়কে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর জীবন রক্ষায় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও গৃহভিত্তিক প্রস্তুতি গড়ে তুলত সচেতনতামূলক মহড়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া দুই’টি ঘটনায় অভিভাবকসহ সর্বত্রই আতঙ্কিত ও চিন্তিত দেবীদ্বারে দিনমজুর হত্যা মামলায় দিনমজুরের যাবজ্জীবন

সাম্প্রতিক কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া দুই’টি ঘটনায় অভিভাবকসহ সর্বত্রই আতঙ্কিত ও চিন্তিত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬,
  • 15 Time View

সাম্প্রতিক কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া দুই’টি ঘটনায় অভিভাবকসহ সর্বত্রই আতঙ্কিত ও চিন্তিত

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির:

সবচেয়ে মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক হলো, আমাদের কিশোর এবং তরুণ বয়সের সন্তানরা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর সব অপরাধে। তারা যেমন নিজেরাও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার হচ্ছে, তেমনি নিজেরাও জড়িয়ে পড়ছে খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিং, ছিনতাই এবং মাদক কারবারের মতো জঘন্য অপরাধে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক ঘটনা আমাদের সমাজের পচন ধরা অবস্থাকে একেবারে নগ্নভাবে উন্মোচন করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কোটবাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের তরুণ ও সম্ভাবনাময় ছেলে অপ্রতীম। সেই শোকের মাতম ও পরিবারের আর্তনাদের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৮ অক্টোবর লালমাইয়ের জগতপুরে খুন হয় সপ্তম শ্রেণীর মাত্র ১২ বছর বয়সী এক মেধাবী ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন। এ দুটি হত্যাকাণ্ড শুধু দুটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং সমগ্র বিবেকবান সমাজকে স্তম্ভিত, হতবাক ও বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। নিহত এ অপ্রতীম কিংবা জান্নাতুল তাজনিম উভয়েই ছিল বয়সে নিতান্তই কিশোর এবং তাদের জীবনের পুরোটা সুন্দর সময় পড়ে ছিল সামনে। কিন্তু সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তারা কেন এমন করুণ পরিণতির শিকার হলো? কেন তাদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে গেল?

এসব প্রশ্নের গভীরে প্রবেশ করলে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এ মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে রয়েছে অভিভাবকদের মারাত্মক দায়িত্বহীনতা এবং সন্তানের প্রতি এক ধরনের অন্ধ উদাসীনতা। তেরো বা চৌদ্দ বছরের একজন কিশোর বা কিশোরী বাসা থেকে বের হয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কার সাথে সঙ্গ দিচ্ছে এবং তার মনের অন্দরে কী ধরনের পরিবর্তনের ঝড় বইছে, তার কোনো খবরই অনেক মা-বাবা রাখেন না। । সারাদিন নিজেদের কর্মব্যস্ততা, যান্ত্রিক জীবন কিংবা

উদাসীনতার অজুহাতে সন্তানের চলাফেরার ওপর নজরদারি না করার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে এভাবে জীবন দিয়ে। সন্তান যখন বাড়ি থেকে বের হয়, তখন মা-বাবার মনে ন্যূনতম কৌতূহলটুকুও থাকে না যে তাদের সন্তানটি কোন পরিবেশে, কার সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছে। অথচ একজন কিশোর বা কিশোরীর মানসিক গঠন এমন একটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে থাকে, যেখানে একটু ভুল সঙ্গ, কুসঙ্গ বা সামান্য বিপথগামিতা তাকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঠেলে দিতে পারে।

অপ্রতীম কিংবা তাজমিন কেউ আর ফিরবে না। একজন মায়ের জন্য একটি বাক্যই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বাক্য। ১২,১৩ কিংবা ১৪ বছরের একটি শিশু ঘর থেকে বের হয়েছিল। পরিবারের কাছে সেটি ছিল আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিক বেরিয়ে যাওয়া। কেউ কি তখন ভেবেছিল, এই বেরিয়ে যাওয়াই একদিন তার শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে? কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর শুনলে আমাদের প্রথম প্রশ্ন হয়-কে দায়ী? কে এই শিশুটির জীবন কেড়ে নিল? বিচার হবে কবে? প্রশ্নগুলো অবশ্যই জরুরি। কিন্তু অপ্রতীমের মৃত্যু তার চেয়েও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে-নিজের চেনা শহর, চেনা পথ, চেনা মানুষের ভিড়েও কেন একটি শিশু নিরাপদ থাকল না?

কাজেই অপ্রতীম কেবল একটি নাম নয়; সে আমাদের সামাজিক বাস্তবতার সামনে রাখা একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা শুধু অপ্রতীমকে দেখি না, দেখতে পাই রামিসা, আছিয়া কিংবা এমন আরও অনেক শিশুর মুখ, যাদের হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা কিছুদিন শোক করেছি, ক্ষুব্ধ হয়েছি, বিচার চেয়েছি। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তাপও কমে গেছে। কিন্তু যে পরিবারগুলো সন্তান হারিয়েছে, তাদের কাছে তো শোকের কোনো মেয়াদ নেই।

তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়-কেন আমাদের প্রতিবাদের শুরুটা হয় একটি প্রাণ হারানোর পর? কেন তার আগেই বিপদের কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করি না? আমরা কি সবসময় আগুন লাগার পর পানি খুঁজব? নাকি আগুন জ্বলার আগেই তার উৎসটুকু নিভিয়ে দেওয়ার কথা ভাববো??

অপরাধের পিছনে তৈরি হয় নানা সামাজিক দুর্বলতা, পরিবারে নজরদারির ঘাটতি, ভুল সঙ্গ, মাদক, কিশোর গ্যাং,অপরাধী চক্রের প্রভাব, অনলাইন জগতের অপব্যবহার কিংবা সমাজের দীর্ঘ নীরবতা-এসব ঝুঁকি একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। কিন্তু আমরা প্রায়ই সমস্যার গভীরে না গিয়ে শুধু একজনকে চিহ্নিত করি-‘খারাপ ছেলে কিংবা খারাপ মেয়ে’, ‘অপরাধী’, ‘দুষ্কৃতকারী’।

অপরাধীর বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু তার আগের গল্পটিও কি আমাদের জানতে হবে না? কোন পরিবেশ তাকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিল, কোথায় তাকে থামানোর সুযোগ ছিল, আর সেই সুযোগগুলো কেন কাজে লাগানো হলো না-এই প্রশ্নগুলোও কি জরুরি নয়?

কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কিংবা সহিংসতা-এসবকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা ধরা পড়ে না। কোথাও পরিবার তার সন্তানের কাছ থেকে দূরে সরে যায়, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পড়াশোনা ও ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কোথাও তরুণদের সামনে সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ না থাকা। আর কোথাও অন্যায় দেখেও মানুষ নীরব থাকে। এই নীরবতাই কি ধীরে ধীরে অপরাধের জন্য জায়গা তৈরি করে না? আমরা কত সহজে বলি-‘আমার কী?’ কেউ বিপদে পড়েছে-চুপ। পাশে অন্যায় ঘটছে-চুপ।কেউ সাহায্য চাইছে-চুপ। তারপর যখন সেই নীরবতার ভেতর থেকে একটি মৃত্যুসংবাদ আসে, তখন আমরা সবাই একসঙ্গে প্রশ্ন করি-এমন হলো কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আয়নাটা নিজের দিকেও ঘোরাতে হবে। কারণ শিশুর নিরাপত্তা শুধু একটি পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি আমার, আপনার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিবারকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে, কিন্তু তার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান-সবারই দায়িত্ব রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হলে শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না: কোথায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, কোন জায়গাগুলো শিশুদের জন্য অনিরাপদ, কোথায় দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন-এসবও আগে থেকে ভাবতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও আমাদের দায়িত্ব কম নয়। কোনো ঘটনা ঘটলেই ছবি, ভিডিও, অনুমান কিংবা যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সচেতনতা তৈরি করে না। বরং কখনো কখনো ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে আরও বিপদে ফেলে। একটি শিশুর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করাও নিরাপত্তার অংশ। তাহলে নিরাপত্তা আসলে কী?

শুধু রাস্তায় পুলিশ থাকা? শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা? নাকি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একটি শিশু ভয় ছাড়াই স্কুলে যেতে পারবে, খেলতে পারবে, পরিচিত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে এবং বিপদে পড়লে নিশ্চিতভাবে সাহায্য পাবে?

সমস্যার গভীরে তাকালে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, নিরাপত্তার প্রকৃত অর্থটা এখানেই।

কারণ, বিচার প্রয়োজন, কিন্তু বিচার তখনই আসে যখন একটি ক্ষতি ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। প্রতিরোধের সাফল্য বরং সেখানে, যেখানে একটি জীবন হারানোর আগেই বিপদকে থামানো যায়।

অপ্রতীমকে কিংবা তাজমিনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। রামিসাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আছিয়াকেও নয়। কিন্তু তাদের হারানোর পরও যদি আমরা শুধু নামগুলো মনে রাখি, কয়েকদিন শোক করি, প্রতিবাদ করি, তারপর আবার সবকিছু আগের মতো চলতে দেই-তাহলে আমরা আসলে কী বদলালাম?

একটি মৃত্যুর পর হাজার প্রশ্ন তোলা সহজ। কঠিন হলো সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একই প্রশ্ন আরেকটি পরিবারের সামনে ফিরে আসবে না।

অপ্রতীম কিংবা তাজমিন আর ফিরবে না কিন্তু তাদের মৃত্যু যদি আমাদের শুধু কাঁদায়, আর না বদলায় আমাদের চিন্তা, আমাদের দায়িত্ববোধ, আমাদের ব্যবস্থা-তাহলে পরের শিশুটির জন্য আমরা আসলে কী রেখে গেলাম? আর কত অপ্রতীম,তাজমিন হারালে আমরা বুঝব-একটি শিশুর নিরাপত্তা কোনো ঘটনার পর শুরু করার বিষয় নয়; এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তার ঘর থেকে শুরু হয়ে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ?

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত, ভীতিকর ও ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধিগুলোর একটি হলো ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার। সমাজের নানান স্তরে, পাড়ায়-মহল্লায় আজ এ কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ থাবা গভীরভাবে বিস্তার লাভ করেছে। স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা কিংবা সাধারণ পোশাকে ঘুরে বেড়ানো এই কিশোররা সামান্য অজুহাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন করছে সমবয়সী কাউকে, আবার জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মহাশূন্য থেকে নেমে আসেনি, তারা সমাজেরই কোনো না কোনো মা-বাবার আদরের সন্তান। তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এই অন্ধকার অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত হচ্ছে, কে তাদের মদদ দিচ্ছে, কোন গোপন আড্ডায় তারা নিজেদের অমূল্য জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে, সে বিষয়ে মা-বাবাদের বিন্দুমাত্র খোঁজখবর থাকে না। মা-বাবারা তাদের সন্তানদের খবর রাখেন তখনই, যখন সেই সন্তানটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে চিরতরে হারিয়ে যায় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে শ্রীঘরে নিক্ষিপ্ত হয়। অনেক সময় সন্তান যখন অপরাধ করতে গিয়ে নিজে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয় কিংবা খুন হয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফেরে, তখন মা-বাবার টনক নড়ে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়, যা আর কোনোভাবেই ঘড়ি বা সময় পেছনের দিকে টেনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। এ মর্মান্তিক সত্যটি আজ আমাদের হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে হবে যে, সন্তানের রক্তমাখা লাশ দেখার আগে তার প্রাত্যহিক গতিবিধির দিকে কড়া নজর দেওয়া প্রতিটি মা-বাবার নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

মা-বাবা এবং পরিবারের সার্বিক উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে আজকের কিশোররা যখন অন্ধকার জগতের দিকে পা বাড়ায়, তখন তারা নিজেরাও রক্ষা পায় না এবং সমাজকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। শুধু সন্তানকে দু’বেলা অন্ন-বস্ত্র দেওয়া, স্কুল-কলেজে পাঠানো বা পকেটে খরচের জন্য টাকা গুঁজে দিলেই মা-বাবার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; সন্তানের মনের গোপন ভাষা বুঝতে হবে, তার চলাফেরা, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। বর্তমান সমাজের এ ভঙ্গুর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে মা-বাবার সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশছে, পড়াশোনার পাশাপাশি তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা কেমন, এসব বিষয়ে প্রতিটি পরিবারকে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যদিকে, রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কিশোর গ্যাংয়ের শেকড় যত গভীরে বা যতো প্রভাবশালী মহলেই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব পুরোপুরি উপেক্ষা করে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকের বিষাক্ত বিস্তার রোধে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্র তার কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে যদি সমাজে একটি ভয়ের ও সুশাসনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তবেই অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একই সাথে সমাজে পুনরায় সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকে একযোগে ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজনন্মকে এই সর্বনাশা অন্ধকূপ থেকে রক্ষা করতে হলে আজই পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় অপ্রতীম ও জান্নাতুলের মতো আরও বহু তাজা প্রাণ এভাবেই অঝোরে ঝরে যাবে, যা কোনোভাবেই একটি সুস্থ জাতির কাম্য হতে পারে না। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ ও কিশোর প্রজন্মের সঠিক লালন-পালন, নৈতিক শিক্ষা এবং নিরাপদ বেড়ে ওঠার ওপর। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি এবং কিশোর অপরাধের যে ভয়ঙ্কর বিস্তার ঘটেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপ্রতীম ও জান্নাতুল তাজনিমের মতো তাজা প্রাণগুলোর অকালে ঝরে যাওয়া আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আমাদের গভীর গাফিলতি রয়েছে।

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে কিংবা কোন বিপথগামী চক্রে জড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়মিত তদারকি করার দায়িত্ব শুধু শিক্ষকদের বা রাষ্ট্রের নয়, সবার আগে তা প্রতিটি অভিভাবকের। সন্তানের হাতে মুঠোফোন বা পকেটে টাকা তুলে দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ মনে করার দিন আজ শেষ হয়েছে। মা-বাবার উদাসীনতা ও সন্তানের প্রতি অন্ধ ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মতো অভিশাপ আজ আমাদের সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। একই সাথে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত না হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর, আপসহীন এবং দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের কালো হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজ থেকে এ অন্ধকার দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্রকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায়, আমাদের এ তরুণ প্রজন্ম অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে এবং একটি দেশের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                  Themes Created By BDITWork