
“রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা”- ঢাকা শহর
মনোয়ার মালেক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ সকালে রাজধানী ঢাকায় বেশিরভাগ প্রধান সড়ক ও গলি-পথে তুলনামূলকভাবে শান্ত দেখা গেছে, যদিও শহরজুড়ে রায়ের দিনটি ঘিরে নিরাপত্তা তীব্র রাখা হয়েছিল।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা, শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার আগে থেকেই রাজধানীতে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, আদালত চত্ত্বর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB), সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও সেনা মোতায়েন ছিল।
তল্লাশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয় গুলিস্তান মোড়, হাইকোর্ট এলাকা, শাহবাগ এবং কর্ণার পয়েন্টগুলোতে। সাইন্সল্যাব , গুলিস্তান ও কারওয়ান বাজারসহ বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশি মনিটরিং ছিল, ফলে পথের গতিপথ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
যানবাহন ও জনসমাগম সকাল-বেলা শহরে যান চলাচল কিছুটা কম ছিল। কিছু এলাকায় সাধারণ দিনের তুলনায় গতি থেমে গিয়েছিল, কারণ মানুষ রাস্তায় কম ছিলেন এবং যানবাহনের উপস্থিতি সীমিত ছিল। তবে সকাল ও মধ্যাহ্নের দিকে যানবাহনের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে, কিছুটা স্বাভাবিক রুটিন ফিরে আসতে দেখা যায়। জনমনে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া যদিও রায়ের দিন হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ছিল, তথাপি পুরো ঢাকায় ব্যাপক সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা হয়নি।
দু’পক্ষের সমর্থকরা কিছুটা সরব হলেও, পথে বড় ধরনের জনগণ সড়কে নেমে নাশকতা বা আক্রমণ করছে এমন খবর সীমিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাস্তায় তাদের উপস্থিতি ও তল্লাশি কার্যক্রম বাড়িয়ে রাখায় এটি একটি “নিয়ন্ত্রিত” পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
তবে, দুপুরে হাইকোর্টের প্রাঙ্গণে রায় পড়ার পর কিছু মানুষ স্লোগান দিতে শুরু করে। সরকার ও প্রশাসনের অবস্থান আদালত এলাকা এবং আশপাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
রায়ের দিন হলেও সাধারণ দিনের মতো কিছুটা জনজীবন চলছে — অফিসগামী, শিক্ষার্থীরা গন্তব্যে যাচ্ছেন এবং যানবাহন সার্বিকভাবে বড় ধরণের বাড়তি বাধা ছাড়া চলাচল করছে।
সব মিলিয়ে আজকের দিনটি রায়ের কারণে উত্তেজনার মধ্যেও দেখা দিয়েছে “নিয়ন্ত্রিত শান্তি” — অনেক জায়গায় নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা শহর, জনতা কিছুটা স্বাভাবিক রুটিন ফিরিয়েছে।