
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদর মডেল থানার মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ঢাকাগামী একটি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনের অভিযোগে বাসের হেল্পারকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেন্টমার্টিন ট্রাভেলসের কাউন্টারের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী সেন্টমার্টিন ট্রাভেলসের একটি স্লিপার কোচে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসটির স্লিপিং সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকগুলো এমনভাবে গোপন করা হয়েছিল যাতে সাধারণ যাত্রী কিংবা বাহ্যিক তল্লাশিতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।
অভিযান চলাকালে বাসের হেল্পার মো. শেখ রাতুল (২৩)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে অভিযানের সময় বাসের চালক নাজমুল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ অত্যন্ত বড় এবং এটি একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের অংশ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে শুধু আটক হেল্পার নয়, এর সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী, সরবরাহকারী ও গ্রহণকারী চক্রকেও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ আরও জানায়, আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা বাসটি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে এই চালানের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারকে ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের অপচেষ্টা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।