
চান্দিনায় এতিমখানার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, বিভিন্ন মামলায় আরও ৫ জন আটক
নিজস্ব প্রতিনিধি, চান্দিনা (কুমিল্লা):
কুমিল্লার চান্দিনায় একটি হাফিজিয়া এতিমখানার ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে পৃথক অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে উপজেলার বরকরই হাজী আব্দুল বারী হাফিজিয়া এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. দুর্জয় আহমদ হৃদয় (৩৪) চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তার ছেলে মো. ইউসুফ আহমদ (১১) ওই এতিমখানার নাজেরা বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার দিন দুপুরে অভিযুক্ত মো. নাজমুল হক বাপ্পি (২১) শিশুটিকে একটি কক্ষ ঝাড়ু দিতে বলেন। পরে শিশুটি ওজুখানায় গোসল করতে গেলে অভিযুক্ত সেখানে গিয়ে তাকে পায়জামা খুলতে বলেন। শিশুটি অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার আগেই বিষয়টি সম্পর্কে সংবাদ পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত নাজমুল হক বাপ্পিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত নাজমুল হক বাপ্পি নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার মনকান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম আব্দুর রহিম খান এবং মাতা মৃত আয়েশা আক্তার।
এদিকে একই সময়ে চান্দিনা থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চারজন এবং অস্ত্র আইনের একটি মামলার জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— রুহুল আমীন মিঠু (৩৪), সালাউদ্দিন ভূঁইয়া (৩৬), শাহিন ওরফে কুদ্দুস (২৫) এবং রুবেল হোসেন (২০)। এর মধ্যে রুহুল আমীন মিঠু অস্ত্র আইনের একটি মামলার জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
চান্দিনা থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে গ্রেফতারকৃত মোট ছয়জন আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।