
এম এ খায়ের ইমন, চান্দিনা (কুমিল্লা):
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক নারী উদ্যোক্তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের মহিচাইল বাজারে অবস্থিত নিউ হাজী জব্বার মার্কেটের নিচতলায় ‘আনিশা বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন ইসরাত জাহান পপি (২৯)। অভিযুক্ত মো. রুবেল (২৮), মো. জামাল (৪০) ও হানিফ (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার বিকৃত ও অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বিউটি পার্লারে ঢুকে পুনরায় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং টাকা দাবি করে। তিনি রাজি না হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে তারা জোরপূর্বক তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করলে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২–এর ৮(১)/৮(২) ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ১০ ধারা অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে।
চান্দিনা থানা সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নি:) শিশির ঘোষ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. রুবেল ও মো. জামালকে গ্রেফতার করেছেন। অপর আসামি হানিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।