
বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
একটি ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু হয়ে ২৫ বছরে পরিণত হয়েছে ধারাবাহিক মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, পড়াশোনায় উৎসাহ সৃষ্টি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
২০০১ সালে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের উদ্যোগে আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টায় মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের পরীক্ষায় চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নাম আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।
৮০ শিক্ষার্থী পাবে বৃত্তি
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণি মিলিয়ে এবার মোট ৮০টি বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০টি ট্যালেন্টপুল, ১০টি সাধারণ এবং ২০টি করে স্কুলভিত্তিক বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
৫০ নম্বরের পরীক্ষা
মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১৫, গণিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
থাকছে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
শুধু একাডেমিক মেধা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে। মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এতে বালক ও বালিকারা দেশাত্মবোধক গান ও গজল পরিবেশনের সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম পাঠানো যাবে। তালিকায় শিক্ষার্থীর নামের পাশাপাশি পিতা-মাতার নাম উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের তালিকা সত্যায়িত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
২৫ বছরের ধারাবাহিক উদ্যোগ
মুকুন্দপুরের বাসিন্দা তাজিরুল ইসলাম বলেন, মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গত ২৫ বছর ধরে এ মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর মূল উদ্দেশ্য বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহিত করা।
তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের এগিয়ে দেওয়া নয়, কোনো কারণে যারা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার পথে, তাদেরও শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তাজিরুল ইসলাম আরও বলেন, মেধাবী ও যোগ্য প্রজন্ম গড়ে উঠলে তার সুফল শুধু একটি পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রেও পড়ে। দীর্ঘদিনের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করছে এবং নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘মেধার বিকাশে উৎসাহ, শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের এবারের আয়োজন। ২৫ বছর আগে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রত্যাশিত মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।