
মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দক্ষ সংগঠক আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন স্যারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ অক্টোবর। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছেন তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর কর্মময় জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে ময়মনসিংহের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
তিনি ময়মনসিংহ মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর উদ্যোগ ও দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহু শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জন ও ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। একটি আলোকিত সমাজ গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে নিজের কর্ম ও চিন্তার মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ময়মনসিংহের আমৃত্যু আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ, সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চা এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন করে তুলেছিল।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, সচেতন ও আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্মতৎপরতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা তাঁর কর্মে, আদর্শে এবং মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতিতে। সেই বিবেচনায় আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন স্যার কেবল একজন শিক্ষাবিদ বা সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন না; তিনি ছিলেন শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা তাঁর আদর্শ ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
১৫ অক্টোবর তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে।
মহান রাব্বুল আলামিন যেন প্রিয় রতন স্যারকে ক্ষমা করে দেন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরান্বিত করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।