
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভরাট করা পুকুরের অংশ পুনর্খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) উপজেলা প্রশাসন, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লার নেতৃত্বে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৬(ঙ) এবং ১৫(১)-এর ক্রমিক নং ৮ অনুযায়ী সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষীনগর এলাকার বাসিন্দা জনাব আবু নাছের আরাফাত ভূইয়া (পিতা: এ কাশেম ভূইয়া)-কে পুকুর ভরাটের অপরাধে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভরাটকৃত পুকুরের অংশ পুনরায় খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাধার সংরক্ষণে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সজীব তালুকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন এবং উচ্চমান সহকারী মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের সদস্যরা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পুকুর, খাল, বিলসহ প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অবৈধভাবে জলাধার ভরাটের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তারা আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে কেউ পুকুর বা অন্য কোনো জলাধার ভরাট করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।