
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কলেজে “জিয়া কর্নার” নামে একটি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।
রবিবার (৩১ মে) চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের মাওলানা ভাসানী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব মো. শামছুল হক মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনার উন্নয়নের রূপকার ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “চান্দিনার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমি আজীবন বিএনপির আদর্শ ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল কলেজে ‘জিয়া কর্নার’ গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্রীয় দর্শন সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ পাবে বলে আয়োজকরা জানান।
কলেজের আইসিটি প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল গ্রাফিক্স উপস্থাপনার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন, যা উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. শাহজাহান চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের, অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম, প্রভাষক মো. রুহুল আমিন, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মো. শরিফুজ্জামান শরিফ, মো. মোবারক হোসেন মোবা, মো. আনোয়ার পারভেজ শিমুলসহ উপজেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল চান্দিনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বক্তারা তাঁর আদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা ও দেশগঠনে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর কর্মময় জীবন তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।