
এস. এম. লুৎফুর কবির, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। বিশেষ অভিযানে ঢাকাগামী একটি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ থেকে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের হেল্পারকে আটক করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় বাসচালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস কাউন্টারের সামনে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী সেন্টমার্টিন ট্রাভেলসের একটি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বাসটির স্লিপিং সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এসব ইয়াবা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাসটির হেল্পার মো. শেখ রাতুল (২৩)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসচালক নাজমুল পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বিলাসবহুল স্লিপার কোচটি আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারচক্রের অংশ। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে এবং এই চালান কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক হেল্পারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে জেলা জুড়ে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কক্সবাজারকে ব্যবহার করে যেন কোনো মাদক চক্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।