
মোঃ আবু হানিফ, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পৃথক পৃথক বিশেষ অভিযানে স্বর্ণ চুরি, ডাকাতি, মারামারি এবং পরোয়ানাভুক্ত মামলার নারীসহ মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আন্তঃজেলা চোর ও ডাকাত চক্রের সদস্যও রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং কুমিল্লার বুড়িচং, সদর দক্ষিণ, কোতোয়ালী ও দাউদকান্দি এলাকার বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ সাইফুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।
আন্তঃজেলা ডাকাত ও স্বর্ণ চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত স্বর্ণ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়—
১. মোঃ আলাউদ্দিন (৩০), পিতা: মৃত মোঃ আলী, গ্রাম: মুগসাইর, থানা: মুরাদনগর, জেলা: কুমিল্লা। তার বিরুদ্ধে পূর্বে ২১টি মামলা রয়েছে।
২. মোঃ আনিছ (২৯), পিতা: আবুল কাশেম, গ্রাম: দড়িকান্দি, থানা: মুরাদনগর, জেলা: কুমিল্লা। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার তক্তারপুল এলাকায় বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।
৩. মোঃ আলী আক্কাস (৩৫), পিতা: মৃত হবি মিয়া, গ্রাম: দিঘীরপাড়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার বৌবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
৪. সুমন (৩০), পিতা: মৃত রুস্তম আলী, গ্রাম: শিবপুর, থানা: ভোলা সদর, জেলা: ভোলা।
৫. মোঃ রবিউল আওয়াল (৩৭), পিতা: মৃত দুলাল মিয়া, গ্রাম: সরকারপুর, থানা: দাউদকান্দি, জেলা: কুমিল্লা।
৬. মোঃ করিম ওরফে আব্দুল মতিন (২৯), পিতা: মৃত আব্দুল্লাহ, গ্রাম: পালগীরি, থানা: কচুয়া, জেলা: চাঁদপুর। বর্তমানে কুমিল্লার শুভপুর ও নোয়াগাঁও এলাকায় বসবাস করেন।
বহুল আলোচিত স্বর্ণ চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ আলাউদ্দিন ও মোঃ আনিছ গৌরীপুর বাজার এবং সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত স্বর্ণ চুরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় স্বর্ণ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় নতুন করে আরও দুটি মামলা (জিআর-৩৬, দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায়) দায়ের করা হয়েছে।
মারামারি মামলায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
একই দিনে রাত সাড়ে ৩টার দিকে জিংল্যাতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—
মোঃ আলম (৫৫)
তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪৫)
পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
এছাড়া ১০ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআই (নিঃ) রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে দুইটি জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ রুবেল (২৬), পিতা: সামছুদ্দিন, গ্রাম: চরকখোলা, থানা: দাউদকান্দি। অন্য পরোয়ানাভুক্ত আসামিকেও একই অভিযানে আটক করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারিও আরও জোরদার করা হয়েছে।