
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ভ্যানিটি ব্যাগে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোকসানা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের চেষ্টা করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন হিসেবে রোকসানা বেগমকে আটক করে তার সঙ্গে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০টি নীল রঙের জিপারযুক্ত প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০টি করে মোট ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে আলামত জব্দ করে রোকসানা বেগমকে আটক করা হয়।
আটক রোকসানা বেগম কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম আবদুল জলিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে আটক নারীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী উখিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় আরও জোরালো নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।