
মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে অবস্থিত দেশের অন্যতম বেসরকারি কুমির প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘উদ্দীপন কুমির খামার’ পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে তিনি খামারটি পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী খামারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কুমিরের প্রজনন, লালন-পালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, সংরক্ষণ কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পরে তিনি খামার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কুমিরের যথাযথ সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক প্রজনন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কুমিরজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্যই নয়, বরং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণ করা সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীসম্পদের সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব খামার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উদ্দীপন কুমির খামারের কর্তৃপক্ষ প্রতিমন্ত্রীকে খামারের প্রতিষ্ঠা, কুমিরের প্রজনন প্রক্রিয়া, ডিম সংরক্ষণ, বাচ্চা উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ, পরিচর্যা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। তারা এ খাতের উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং রপ্তানি সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ও তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন এবং কুমির সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক খামার ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, খামার কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।