
গত ২৬ই জুলাই ২০২৫ ইং দৈনিক কুমিল্লার স্বাধীন সংবাদ পত্রিকায় গ্রাম পাঙ্গাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নানা দুর্নীতি অনিয়ম এবং সরকারী বিভিন্ন নিয়মনীতি ভঙ্গের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নড়ে চরে বসেন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সহকারী উপজেলার শিক্ষা অফিসার জনাবা আফরোজ জাহান তদন্ত করে প্রতিবেদনের সত্যতা খুঁজে পাওয়ার পর তাদের লিখিত জবাব দিতে বলেন,লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সহকারী ৫ জন শিক্ষিকাকে শোকজ করেন। শোকজ হওয়া ৫ জন সহকারী শিক্ষিকা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ৬৪ নং গ্রাম পাঙ্গাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ নাসিমা খাতুন,মোছাঃ নাসরীন নাহার,মোছাঃ রুমানা জেসমিন,মোছাঃ নাজমিন আরা এবং মোছাঃ সুলতানা খাতুন। প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় সরকারী নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছেমত বিদ্যালয় পরিচালনা করা হতো। স্কুলের সময় সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত হলেও এমন নিয়ম কখনোই পালন করা হতো না ঐ বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে একের পর এক সরকার যখন বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেই সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকা একের পর এক নিয়ম ভেঙ্গেই যাচ্ছেন। চলমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে এবং প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে সরকারী কোন শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবে না এমন প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন চোখে পড়ার মত নয়। ৬৪ নং পাঙ্গাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ৬৪ জন শিক্ষার্থী নিয়েও তাদের জমজমাট কোচিং বানিজ্য। গত ২৪- ০৭-২০২৫ ইং রোজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২ ঘটিকায় সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ নাছিমা খাতুন, মোছাঃ নাসরীন নাহার, মোছাঃ রুমানা জেসমিন, মোছাঃ নাজমিন আরা, মোছাঃ সুলতানা খাতুন, বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময় হওয়ার আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এছাড়াও বিদ্যালয়টির স্লিপ ফান্ড এর অর্থ নয়- ছয় সহ বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ৬৪ জন কোচিং করি এবং প্রতি মাসে প্রত্যেকে ৩০০ টাকা করে বেতন দেই, অত্র এলাকার সচেতন মহল বলেন, স্কুলে ঠিকমত পাঠদান না করিয়ে কোচিংএর নামে এরা বানিজ্য করে। এখানে কোচিং না করলে বাচ্চার রেজাল্ট তেমন ভালো হয় না। কোচিং এ দেওয়ার পর আমার ছেলে সব বিষয়ে খুব ভালো ফলাফল করছে।
এ সকল বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকাদের সাথে মুঠোকোণে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন বিদ্যালয়টিতে ৪১৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বৃহস্পতিবার তেমন শিক্ষার্থী ছিল না তাই আমরা জোহরের নামাজ পড়ে যে যার মত বাসায় চলে যায়,
এ সকল বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ হযরত উল্লাহ বলেন, আমি উপজেলায় মিটিংয়ে ছিলাম, কে কখন চলে গিয়েছে আমি বলতে পারিনা,কোচিং এর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো হয়, সহকারী অফিসার জনাবা আফরোজ জাহান সিরাজগঞ্জ অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিরাজগঞ্জ অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিমের অনুসন্ধানের ফলে এ ধরনের তথ্য আমরা হাতে পেয়েছি।