
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের কোনাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বাহিনী। তবে অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) রাত প্রায় ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি বিশেষ আভিযানিক দল হ্নীলা ইউনিয়নের কোনাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে মাটির নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, মাদক পাচারকারীরা সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ইয়াবা মজুত ও পাচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এরই অংশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো মাটির নিচে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো মাদক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একের পর এক বড় চালান জব্দ হচ্ছে। তবুও মাদক চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশলে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।