
নিজস্ব প্রতিনিধি|চান্দিনা:
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার গ্রামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ঘরের তালা ভেঙে আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও রূপার গহনা লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে পরিবারের এক সদস্যকে বাইরে থেকে শিকল লাগিয়ে আটকে রাখার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার মাইজখার গ্রামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে। প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের পিতা মহরম আলী জানান, তার ছেলে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে ছিলেন। তিনি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন বাইরে থেকে শিকল লাগানো। পরে ডাকাডাকিতে পরিবারের অন্য সদস্য এসে দরজা খুলে দিলে তিনি ছেলের কক্ষে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা, আলমারি ও ওয়ারড্রব ভাঙা এবং ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পরিবারের দাবি, চোরেরা তিনটি সোনার আংটি, দুটি সোনার গলার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল এবং একটি রূপার কোমরের বিছাসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার গহনা নিয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি চান্দিনার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বাড়লেও রাতের টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন—একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও জোরদার উদ্যোগ কবে দেখা যাবে? অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাতের টহল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।