
নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চিলোড়া বাজারে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ঘটে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলডিপি নেতাকর্মীদের দোকানপাট এবং বসত বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চিলোড়া বাজার।
চুরির ওই ঘটনাটি বিএনপি-এলডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অঙ্গ সংগঠন গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চান্দিনা সরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এছাড়া ওই ঘটনায় উভয়পক্ষের আরও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। তবে তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর নয়। ওই ঘটনায় ১টি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় ওই সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের ওপরও হামলা করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ততক্ষণে বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটনের খাবার হোটেল, গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের ভাই হোসাইনের একটি চা দোকান ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ বিএনপির লোকজন। এছাড়া ছোটনের খাবার হোটেল থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, বসতবাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন জানান, চিলোড়া বাজার জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য দান অনুদানের যে টাকা পাওয়া যায় সব সময় সেগুলো গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের মুদি দোকানে রাখা হয়।
তিনি জানান, শনিবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দোকানের সাটারের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই দোকানের ক্যাশ ভেঙে মসজিদ ও দোকানের টাকা নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখা যায়- পার্শ্ববর্তী এতবারপুর গ্রামের মৎস্যজীবী দল নেতা রোকনের ছেলে রিফাত (১৫) ওই চুরির ঘটনা ঘটায়। পর দিন রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত রিফাতকে চিলোড়া বাজারে পেয়ে আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত মানুষ রিফাতকে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
ছোটন জানান, ওই ঘটনার জের ধরে রিফাতের গ্রাম এতবারপুর, পৌরসভার হারং ও মহারং এলাকার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের বসত বাড়িতে হামলা করে তাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে মারধর এবং দোকান ভাঙচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
তিনি অভিযোগ করেন- চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরু, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক দোলন, এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ওই হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অভিযুক্ত চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সারাদিন কুমিল্লাতে আছি। এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
উপজেলা এলডিপির সভাপতি একেএম শামসুল হক মাস্টার বলেন, বিএনপি সম্প্রতি সারা দেশে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। যুগপৎ আন্দোলনে আমরা বিএনপির সঙ্গে স্বৈরাচার বিরোধী সব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। ফলে এই আসনে আমাদের দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাওন ও তার লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে এলডিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আমরা সব সময় সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চাই। তবে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ বলেন, সন্দেহজনকভাবে ১২ বছরের একটি ছেলেকে মারধর করার খবর পেয়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ৪-৫ জন নেতাকর্মীকে মারধর করে।
এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যাননি বলে দাবি করেন। এছাড়া ৫টি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানা ওসি জাবেদ উল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় জানান, চুরির ঘটনা থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।