
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এবং সাপ্তাহিক ‘কুমিল্লা ক্রাইম বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক রেজার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার সাংবাদিক মহল, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মামলার পেছনে থাকা তদন্ত প্রতিবেদন এবং তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই সালাম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাংবাদিক রেজার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত আলমগীরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সাংবাদিক রেজার বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হলে মহামান্য আদালত মামলার নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্য প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনার পর আদালত সাংবাদিক রেজাকে জামিন প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর মামলার অভিযোগের ভিত্তি এবং তদন্ত প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক রেজা অভিযোগ করে বলেন, তার পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। তিনি দাবি করেন, দায়েরকৃত মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। সমাজের অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা মনে করছেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। একইসঙ্গে তদন্তের নামে পক্ষপাতমূলক বা প্রশ্নবিদ্ধ কোনো প্রতিবেদন যেন বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সচেতন নাগরিকরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আদালতের জামিন প্রদান এবং মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের কারণে বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। ফলে মামলার পরবর্তী তদন্ত, শুনানি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক রেজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে আইনজীবীরা মত দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।