
নিজস্ব প্রতিনিধি | কুমিল্লা:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে সংঘটিত একটি ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র করে আপস-মীমাংসার নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলাটি মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল আপসের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে। পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়েরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী ধর্ষণ একটি গুরুতর, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের মামলার কোনো বৈধ নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। ফলে আপসের নামে অর্থ লেনদেনের চেষ্টা আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে খুরুইল গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বাসভবনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলে অভিযুক্ত পক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে কনস্টেবল দ্বীন ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিন সরকার, আবুল বাসার সরকার, জহিরুল ইসলাম (কালা) এবং নোয়াখলা গ্রামের এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে একটি সমাধান হতে পারে বলে তারা শুনেছেন। তবে তারা পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অজয় বলেন, “ধর্ষণ মামলায় কোনো ধরনের আপস-মীমাংসার আইনগত সুযোগ নেই। অভিযোগের সব দিক তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধর্ষণ মামলায় কোনো ধরনের রফাদফা বা আপসের সুযোগ নেই। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আপসের নামে অর্থ লেনদেনের কোনো চেষ্টা হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।