
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১
এম এ খায়ের ইমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে মো. আলমগীর হোসেন (৫০) নামে এক বাস সুপারভাইজারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হাঁড়ি সর্দার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার রাজা নারায়নপুর গ্রামের মৃত আবদুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলস পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাঁড়ি সর্দার এলাকায় পৌঁছালে সামনে চলতে থাকা সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস হঠাৎ কোনো ধরনের সিগন্যাল বা সংকেত ব্যবহার না করে মহাসড়কের বাম পাশে থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় পেছনে থাকা শ্যামলী বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসের ভেতরে থাকা সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামনের বাসটি কোনো ধরনের সংকেত না দিয়েই হঠাৎ সড়কের পাশে থামানোর চেষ্টা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর উভয় বাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস জব্দ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, অসতর্ক ড্রাইভিং এবং ট্রাফিক নিয়ম অমান্যের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।