
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির উদ্ভাবনে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি দল। ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রকল্পে প্রথম স্থান অর্জন করে তারা। বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজা।
তাদের এই অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জারা তাসনুভা আলমের পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার তালতলা গ্রামে হওয়ায় তার সাফল্যে গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ী দলের দলনেতা জারা তাসনুভা আলম ও দলের সদস্য হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি অ্যাপল ল্যাপটপ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ এক্সপোতে দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনাময় নতুন ধারণা তুলে ধরেন।
৫০০ প্রতিযোগীর ৩০২ প্রকল্পের মধ্যে সেরা
প্রতিযোগিতা সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী আয়োজিত এ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সমগ্র বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তারা মোট ৩০২টি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেন। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাইপর্বে যাচাই-বাছাই শেষে সেরা আটটি দলকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।
চূড়ান্ত পর্বে স্রেডার যুগ্ম সচিব, জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ বিচারকদের সমন্বয়ে গঠিত মূল্যায়ন প্যানেলের সামনে প্রকল্প উপস্থাপন করে দলগুলো। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের কার্যকারিতা, প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রথম স্থান অর্জন করে জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার দল।
প্রতিযোগিতায় জিআইজেড, জার্মান দূতাবাস ও স্রেডা কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গবেষণা এবং উদ্ভাবনে আরও উৎসাহিত করবে।
নানার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ জারার অর্জন
নিজের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন শ্রদ্ধেয় নানা মরহুম হারুনুর রশিদ ভূঁইয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন বিজয়ী দলের দলনেতা জারা তাসনুভা আলম। প্রিয় নানার স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে এমন একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন তার জন্য বিশেষ আবেগ ও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
জারা তাসনুভা আলমের পৈতৃক নিবাস কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার তালতলা গ্রামে। নানার বাড়ি নবীয়াবাদ গ্রামে তার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারার বিকাশে তার এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তরুণ উদ্ভাবকদের সাফল্যে গর্বিত পরিবার ও স্বজনরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার জন্য এক অনন্য সম্মান। তাদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবার এবং দেবিদ্বার এলাকার জন্যও গৌরবের বিষয়।
পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা তাদের এ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এই দুই তরুণ উদ্ভাবক সততা, নিষ্ঠা ও মেধার সমন্বয়ে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তাদের পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে জানিয়েছে, জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজা যেন সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এ তাদের এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে—জারা ও তুরাজার সাফল্য যেন সেই সম্ভাবনারই উজ্জ্বল প্রতিফলন।